নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে সংঘর্ষে আহত যুবক বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্ত আবু রশিদের দুটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। নিহত বশির পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দেরখীল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার বৈদ্দেরখীল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বারেক মিয়ার ছেলে আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে নাদিরের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই সময় নাদিরের পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে আবু রশিদের দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে নাদিরের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে। হামলায় বশিরের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় বশির উদ্দিন ও আবু রশিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার দিবাগত রাতে বশির উদ্দিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বশিরের মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোর রাতে বিক্ষুব্ধ লোকজন আবু রশিদের দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
এতে তাদের দুটি বসতঘর পুড়ে যায়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, বৈদ্দেরখীল গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বশির উদ্দিন ও আবু রশিদ আহত হওয়ার ঘটনায় উভয় পরিবার থানায় দুটি পৃথক মামলা করে। সোমবার রাতে বশিরের মৃত্যুর সংবাদ জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একাধিক টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে যায়।
ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদের দুটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদেরকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নিহত বশির উদ্দিনের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বশির উদ্দিন পেশায় নির্মাণশ্রমিক। গত ২১ এপ্রিল সংঘর্ষের সংবাদ শুনে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু আবু রশিদের পক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও শক্ত বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করার কারণে গুরুতর আহন হন।
ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে বশিরের মাথায় অস্ত্রপ্রচার করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে বশির উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। নিহত বশির উদ্দিন তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম শাহিন বলেন, মাদকের ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭নং ওয়ার্ডটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট এলাকাটি ব্যবহার করে মাদক সরবরাহ করে আসছে। নাদির ও আবু রশিদের পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। নিহত বশির উদ্দিনকে মাদক ব্যবসায়ীদের বলি হতে হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, বৈদ্দেরখীল এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পরিবারই থানায় পৃথক মামলা করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি ওই ঘটনায় আহত বশির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।